জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করেছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গঠিত এই উপ-কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।দলীয় সূত্রে জানানো হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে এই উপ-কমিটিতে সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত বিন্যাস রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে এই কমিটিতে দুজন উপ-প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগে সুচারুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনলাইন জরিপ
সারাদেশ
সারাদেশ
রাজনীতি
যশোরের শার্শায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে মোঃ রবিউল ইসলাম (৫৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শার্শা থানা পুলিশ।গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম শার্শা উপজেলার ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি গোড়পাড়া কলোনীপাড়ার হাজী মোঃ লাল মিয়ার ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শার্শা থানার এফআইআর নং-২৩, তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জিআর নং-৩০২-এর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৪/৬ ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শার্শা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের পাঠানো তথ্যে আদালতে পাঠানোর তারিখ ২ সেপ্টেম্বর উল্লেখ থাকায় বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।এদিকে শার্শা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের সব জায়গায় বর্তমানে অত্যাচারের একটা উৎসব লেগে গেছে। মানুষের জীবন সুন্দর ও সুগম করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার এবং নাগরিক নারী ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি কাম্য ছিল না, যেখানে নারীরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাবেন এবং শিশুদের জীবনের কোনো গ্যারান্টি থাকবে না।কিশোরদের জীবন ‘সম্পূর্ণ রেস্ট্রিক্ট’ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা জীবন যদি সুন্দর করতে না পারেন, একটা কিশোরের জীবন বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে না পারেন, তাহলে সংস্কারটা কী?’বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদককে কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ করেন মান্না।নিম্ন আদালত ও জেলা জজ আদালতে জামিনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালত আজ একশ্রেণির মানুষের দ্বারা দখল হয়ে গেছে।’দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে মান্না বলেন, সারা বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, তখন অযৌক্তিকভাবে বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ করা টাকা থাকা সত্ত্বেও কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সুপারিশের প্রতিও অন্তর্বর্তী সরকার বা বর্তমান সরকার কেউই কর্ণপাত করেনি। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ‘আগুন লেগেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বৈরাচার যাতে আর কখনো ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে সেই পথ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা বা নেপালে অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি ভালো নির্বাচন দিয়ে দেশ সংকট কাটিয়ে উঠেছে। অথচ বাংলাদেশে সংস্কারের নামে দীর্ঘ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হয়েছে।সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘সংবিধান পরিষদ’ গঠন নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তা সুরাহার তাগিদ দিয়ে মান্না বলেন, পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা সংশোধন যেন পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তার বক্তব্য কোনো বিশেষ দলের বিরোধিতার জন্য নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে।তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, তাড়াহুড়ো করে সংবিধান সংশোধনসহ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা উচিত। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ম্যান্ডেট সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো জাতিকে আবার অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা ভিক্ষা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি। হয়তো সেই ভিক্ষার টাকা পরিশোধ করার জন্য এনসিপিকে এখন গণভিক্ষা কর্মসূচি চালু করতে হচ্ছে। জামায়াতের পক্ষে খ্যাপ মারতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, সামনে স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত নাকি এনসিপিকে আর ভিক্ষা দেবে না। এ ছাড়া অতীতে বন্যার টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন গণভিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও স্থানীয় নির্বাচনের ফান্ড উত্তোলনে আবারও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গণভিক্ষা কার্যক্রমে জোর দেবে এনসিপি। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এনসিপি যদি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করে, তবে তাদের গণভিক্ষা তহবিলে আমি ১ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেব।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।পোস্টে তিনি বলেন, আর হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফকিন্নির বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছিলেন রুমিন ফারহানা আপা। জানি না, রুমিন ফারহানা আপার ভাষায় সেসব ফকিন্নির বাচ্চারা ১৮ মাসে লাগামহীন দুর্নীতি করে এখন জমিদারের বাচ্চা বনে গেছে কি না। নতুবা আলিশান কার্যালয় ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া এবং জমিদারি ভাবসাব নিয়ে চলাচলের অর্থ পায় কোত্থেকে? একটা গণঅভ্যুত্থান এদের এক ডজন নেতার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে। এরা মনে করছে, এদের ১৮ মাসের অবাধ লুটপাটের ইতিহাস মানুষ এত সহজে ভুলে গেছে।রাশেদ খাঁন লেখেন, বিএনপির লোকজন ১৭ বছর ক্ষুধার্ত থেকেও আন্দোলন করেছে। কিন্তু সেসময় হাসনাত আব্দুল্লাহরা ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর লুঙ্গির তলে থাকা ছাড়া আর কী ভূমিকা রেখেছে? বুঝলাম, বিএনপির ওপর মানুষ আস্থা পায়নি বলে ১৭ বছর আন্দোলনে নামেনি। কিন্তু নাহিদ ইসলামদের ওপর আস্থা রাখলে জনগণ কেন তাদের ক্ষমতায় বসালো না? শোনেন, মানুষ কি ভুলে গেছে জামায়াত-এনসিপির প্রধান বিরোধীদল হওয়ার জন্য কামড়াকামড়ির ইতিহাস?মূল বিষয় হলো, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো বিরোধীদল বানাতে রাজি না হওয়ায় এনসিপি জামায়াত জোটে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপির এ সিদ্ধান্তে জামায়াত উপকৃত হয়েছে এবং গণতন্ত্র গৃহপালিত বিরোধীদলের তকমা থেকে রেহাই পেয়েছে। জানি, এজন্য বিএনপির ওপর এনসিপির প্রচুর ক্ষোভ আছে। তবে একথা বলতেই হয়, নতুন বন্দোবস্তের ঠিকাদার এ এনসিপি ক্ষমতার জন্য ছোট্ট বয়সে একটা ধান্ধাবাজ দলে পরিণত হয়েছে।একইপোস্টে অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে, এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থপাচারে আওয়ামী লীগকেও পেছনে ফেলত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।
রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ।ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের ওই বাসায় অবস্থানের কারণ এবং তারা সেখানে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।শওকত হাসানুর রহমান রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর মিরপুরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা পরিদর্শনের সময় বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সর্প দংশন করা, ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক আমরা দেখতে চাই না।’সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আর যেন কোনোদিন কোনো দুর্বৃত্ত এসে এখানে হাত দিতে না পারে, তার যথাযথ ব্যবস্থা করা হোক। আর যে দুর্বৃত্তরা এই কর্ম করেছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সামাজিক অপকর্ম করার সুযোগ না পায়।’জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপমান করা হচ্ছে। এভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবায় যে জনবল থাকা দরকার, তার অর্ধেকই নেই। সেই অর্ধেক জনবল নিয়ে কুড়িয়ে কুড়িয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা চলছে। সুতরাং সব জায়গায় সরকারকে অবশ্যই মানবিক ও যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। এ ধরনের দুর্বৃত্তপনা বন্ধ করতে হবে।’জামায়াত আমির দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। এই তিন-চার দিনে রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি ঘটনা ঘটে গেল।’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জমিজমার সমস্যা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। সংবিধান ও আইনে তার যথাযথ পন্থা রয়েছে। তাই বলে কারও সম্পদের ওপর এ ধরনের গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা হাত দেবে, তার কোনো সুযোগ নেই।’হামলার ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন এর দলীয় কালার দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কোনোরকমে একজন-দুজনকে টেনে এনে বিরোধী দলকেও এখানে হাজির করা যায় কি না-এমন চেষ্টা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমি খুব দৃঢ়ভাবে বলছি, এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি, আমাকে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমা না করে। আমাকেও যেন আইনের আওতায় নেয়।’জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না।’ তিনি বলেন, ‘গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন-আপনারা এটা জনগণ দেখতে চায় না। আমরা সর্প দংশন করা, ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাও করব ইনশাআল্লাহ।’
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, প্রতিবাদে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ছাত্রদলের আহবানে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হতে কঠোর হুসিয়ারী দেয়া হয়েছে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ।দেশ বিরোধী এক শ্রেণীর চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলেও বীরগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল আয়োজনে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।ছাত্রদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আকাশ সম্ভাব্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত থেকে কর্মসূচী সফল করেছে।ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাঈমুর রহমান পুষ্প কর্মসূচির সঞ্চালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে। শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির উপদেষ্টা, সাবেক ভিপি, চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু। পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার, সাধারণ সম্পাদক নমিরুল ইসলাম চৌধুরী সেনা, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সুজালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রর্থী শওকত জুলিয়াস জুয়েল। বিশিষ্ট নেতা উপজেলা বিএনপি নির্বাহী সদস্য, মেয়র প্রার্থী, বাবু সুভাষ দাস, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহেদুল ইসলাম মাজু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সবার প্রীয় নেতৃত্ব শাহজাহান সিরাজ শিপন।পৌর যুবদল আহবায়ক আরিফ মাসুম পল্লব, মমতাজুল করিম তাজু, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফেরদৌস হোসেন মন্ডল, ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেনসহ স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল, বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তাগণ কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন এটা বিনা ভোট বা রাতের ভোটের হেনোতেনো সরকার নয়, কাজেই যত ষড়যন্ত্র করা হউক না কেন কাজে আসবে না।বিএনপি জনগনের সরকার, জনগন বিপুল ভোট দিয়ে তাদেরকে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসিয়েছে, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে তারাই প্রস্তুত এবং রুখে দিবে তাতে সন্দেহ নাই। বক্তারা সর্বদা সজাগ আছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন। বিক্ষোভ সমাবেশের পুর্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ছাত্রদলের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেছে। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ছিল পৌর শহর।