দৈনিক উত্তরের নিউজ

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ, এখন কী হবে?

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ, এখন কী হবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে। দুই পক্ষই আলোচনায় বসেছিল নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দাবি করে, ফলে স্বল্প সময়ে সমাধানে পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত। 

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। এতে করে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ হুমকির প্রেক্ষাপটে। তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনার সূচনা হয়েছিল।

এখন বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? যুদ্ধবিরতি কি টিকবে, নাকি নতুন করে সংঘাত শুরু হবে?

বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানান, নতুন করে হামলা শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন আর আলোচনার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো মারণাস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে না।

তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের ভেতরে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে জনমতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি আলোচনা ছিল একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তবে ফলহীন এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ, এখন কী হবে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে। দুই পক্ষই আলোচনায় বসেছিল নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দাবি করে, ফলে স্বল্প সময়ে সমাধানে পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত। 

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। এতে করে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ হুমকির প্রেক্ষাপটে। তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনার সূচনা হয়েছিল।

এখন বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? যুদ্ধবিরতি কি টিকবে, নাকি নতুন করে সংঘাত শুরু হবে?

বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানান, নতুন করে হামলা শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন আর আলোচনার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো মারণাস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে না।

তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের ভেতরে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে জনমতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি আলোচনা ছিল একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তবে ফলহীন এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

সম্পাদকঃ নুর আমিন
সহ-সম্পাদকঃ আরকে. রাসেদ খান
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ