দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মাটির রাস্তায় নিম্নমানের ইট-বালু ব্যবহারের অভিযোগ, ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা

মাটির রাস্তায় নিম্নমানের ইট-বালু ব্যবহারের অভিযোগ, ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা

 কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে নাঙ্গলকোট উপজেলার তিনটি সড়কে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ।

প্রকল্পের আওতায় মক্রবপুর ইউনিয়নের মঘুয়া মাস্টারপাড়া থেকে মক্রবপুর উচ্চবিদ্যালয়, দৌলখাঁড় ইউনিয়নের পাইকোট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ব্যাপারীবাড়ি এবং পেরিয়া ইউনিয়নের মুরগাও এলাকার হোসেনের দোকান থেকে মাইরাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত তিনটি সড়কে ৫০০ মিটার করে এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের কথা রয়েছে।

সম্প্রতি মক্রবপুর এলাকার সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তার ভিত্তি প্রস্তুতের সময় মাটি মিশ্রিত বালু এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানান। পরে নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত অনেক ইটেই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো চিহ্ন বা নম্বর নেই। পাশাপাশি বালুর সঙ্গে অতিরিক্ত মাটি মেশানো হয়েছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বলেন, তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলবেন।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের মালামাল অপসারণ করে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


মাটির রাস্তায় নিম্নমানের ইট-বালু ব্যবহারের অভিযোগ, ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

 কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।


জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে নাঙ্গলকোট উপজেলার তিনটি সড়কে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ।


প্রকল্পের আওতায় মক্রবপুর ইউনিয়নের মঘুয়া মাস্টারপাড়া থেকে মক্রবপুর উচ্চবিদ্যালয়, দৌলখাঁড় ইউনিয়নের পাইকোট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ব্যাপারীবাড়ি এবং পেরিয়া ইউনিয়নের মুরগাও এলাকার হোসেনের দোকান থেকে মাইরাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত তিনটি সড়কে ৫০০ মিটার করে এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের কথা রয়েছে।


সম্প্রতি মক্রবপুর এলাকার সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তার ভিত্তি প্রস্তুতের সময় মাটি মিশ্রিত বালু এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানান। পরে নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত অনেক ইটেই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো চিহ্ন বা নম্বর নেই। পাশাপাশি বালুর সঙ্গে অতিরিক্ত মাটি মেশানো হয়েছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বলেন, তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলবেন।


এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের মালামাল অপসারণ করে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

সম্পাদকঃ নুর আমিন
সহ-সম্পাদকঃ আরকে. রাসেদ খান
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ