দৈনিক উত্তরের নিউজ
আপডেট : বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় ৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান,

ছিনতাইয়ের ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার, কৃষক দলের নেতাসহ আটক ৩

 ছিনতাইয়ের ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার, কৃষক দলের নেতাসহ আটক ৩

নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে রাতভর ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালকও রয়েছেন। অভিযানে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী আব্দুল আলিম (৩৪) ‘মেসার্স সোহাগ আইরন স্টোর’ নামের একটি ভাঙারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে বসবাস করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫) এবং ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫) ৩ নভেম্বর বগুড়ায় ভাঙারি মালামাল বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।

ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে পৌঁছালে তাঁদের পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে চালক সোহেল রানাকে হালকা মারধর করেন এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে তাঁদের কাছে থাকা মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) গ্রেপ্তার হন। তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে মুন্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহাদেবপুর উপজেলার ঈশ্বরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিনকে (২৫) তাঁর মহাদেবপুরের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ

পরে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্নার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার এবং রবিনের প্রধান ভূমিকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১০ হাজার টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অর্থের অধিকাংশ উদ্ধারকে জেলা পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ছিনতাইয়ের ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার, কৃষক দলের নেতাসহ আটক ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে রাতভর ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালকও রয়েছেন। অভিযানে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী আব্দুল আলিম (৩৪) ‘মেসার্স সোহাগ আইরন স্টোর’ নামের একটি ভাঙারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে বসবাস করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫) এবং ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫) ৩ নভেম্বর বগুড়ায় ভাঙারি মালামাল বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।

ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে পৌঁছালে তাঁদের পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে চালক সোহেল রানাকে হালকা মারধর করেন এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে তাঁদের কাছে থাকা মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) গ্রেপ্তার হন। তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে মুন্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহাদেবপুর উপজেলার ঈশ্বরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিনকে (২৫) তাঁর মহাদেবপুরের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ

পরে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্নার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার এবং রবিনের প্রধান ভূমিকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১০ হাজার টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অর্থের অধিকাংশ উদ্ধারকে জেলা পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

সম্পাদকঃ নুর আমিন
সহ-সম্পাদকঃ আরকে. রাসেদ খান
প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ